ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলার মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এ সময় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, জমিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও কৃষিজমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ আইনসিদ্ধ নয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৈধ মালিকানার কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাড়িঘর ভেঙে রাতারাতি গৃহহীন করা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে গোয়ালপাড়ার মাগুরমারিসহ কয়েকটি এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, এই অভিযানে বহু পরিবার সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আসামের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করায় খোলা আকাশের নিচে এসব পরিবারের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
নর্থ-ইস্ট মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সভাপতি নুরুল ইসলাম সরকার এ অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গোয়ালপাড়ায় মুসলিমদের বারবার উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতে বন্যা ও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে কেউ কেউ সরকারি জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে এবারের অভিযানে যাঁদের বাড়ি ভাঙা হয়েছে, তাঁরা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেই বসবাস করছিলেন এবং তাঁদের কাছে মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে।
নুরুল ইসলাম সরকারের ভাষ্য, জমিগুলো শুধু কৃষিজমি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ার অজুহাতে প্রশাসন আপত্তি তুলেছে। অন্যদিকে আসাম মুসলিম ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আশিক রব্বানিও এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করে বলেন, নিজের কৃষিজমিতে বাড়ি নির্মাণ করাকে কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এদিকে, আসামে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চলতি বছরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কারও জমির অধিকার বা দখলের বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নথিপত্র যাচাই, নোটিশ প্রদান, বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ এবং কারণ উল্লেখ করে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
এ অবস্থায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং পূর্বঘোষিত নোটিশ ছাড়াই বহু পরিবারকে রাতারাতি উচ্ছেদ করার অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একই সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বারবার উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
